‘আল্লাহ মোরে না নিয়া মোর বাজানরে ক্যান নিয়া গেল’
‘আল্লাহ মোরে না নিয়া মোর বাজানরে ক্যান নিয়া গেল, কেডা আমারে দাদী কইয়া ডাকবো। আমি এহন কী করবো।’ এভাবেই আহাজারি করছিলেন নিহত শাওন মৃধার মা কোহিনুর বেগম। সন্তান, পুত্রবধূ ও নাতিদের হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কে নুরানি গেট এলাকায় প্রাইভেটকার খালে পড়ে আটজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হোগলাবুনিয়া গ্রামের একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন শাওন মৃধা, তার স্ত্রী আমেনা বেগম ও তার দুই শিশুপুত্র আব্দুল্লাহ (৩) ও শাহাদাৎ (৭)।
শাওন মৃধা জেলার নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাংগা ইউনিয়নের হোগাবুনিয়া গ্রামর মৃত আসাদ মৃধা ও কোহিনুর বেগম দম্পতির ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট শাওন মৃধা। পরিবার নিয়ে থাকতেন রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায়। তিনি বিয়ে করেছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায়।
শাওনের খালাতো ভাই জানিবুল ইসলাম মুরাদ জানান, ৬ অক্টোবর রোববার শাওন ও মোতালেব পরিবারের মোট ৮ সদস্য নিজের প্রাইভেটকারে করে কুয়াকাটায় সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যান। কথা ছিল কুয়াকাটা থেকে নিজ গ্রাম হয়ে আবার ঢাকা ফিরে যাবেন। কিন্তু তার ঢাকা ফেরা হলো না।
পিরোজপুর সদর উপজেলার নুরানি গেট এলাকার নাজমা আকতার বলেন, রাত ৩টার দিকে আমাদের বাড়ির সামনে বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে আমি আর আমার ছেলে বের হই। এ সময় খালের পানিতে একটি প্রাইভেটকার উল্টে পড়ে থাকতে দেখি। তৎক্ষণাৎ স্থানীয়দের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও থানায় খবর দেই। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এদিকে জেলা বিএনপি আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নাজিরপুরের শাওন মৃধার পরিবারকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।