দেখা-সাক্ষাতে সালাম বিনিময় করতে মহানবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, সালাম হলো মানুষের জন্য শান্তির প্রত্যাশা করা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া। ‘সালাম’ ইসলাম ধর্মের শান্তি বার্তার প্রতীক। সালাম মুসলমানদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা, হৃদ্যতা ও সুসম্পর্ক সৃষ্টি করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর ঈমানদার হতে পারবে না পরস্পরে ভালোবাসা না হলে। তোমাদের কি এমন একটি বিষয়ের কথা বলব, যা করলে তোমাদের পরস্পরে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে ব্যাপকভাবে সালাম বিনিময় কর। ’ (মুসলিম : ৫৪)।
যেভাবে সালামের সূচনা
আমাদের আদিপিতা হযরত আদম (আ.) থেকে সালামের সূচনা হয়। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলে কারিম (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা হযরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করে বললেন, ‘ফেরেশতামণ্ডলীর একটি দল বসে আছে, তুমি তাদের কাছে যাও এবং তাদের ওপর সালাম পেশ কর। আর তারা তোমার সালামের কী জবাব দেয় তা মন দিয়ে শোন। কেননা ওটাই হবে তোমার ও তোমার সন্তান-সন্ততির সালাম বিনিময়ের রীতি। ’ সুতরাং তিনি (তাদের কাছে গিয়ে) বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম’, তারা উত্তরে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ’। তারা ‘ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ শব্দটা বেশি বললেন। ’ (বুখারি : ২/৯১৯)
সালামের গুরুত্ব
ইসলামে সালামের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে পরস্পরের মাঝে ভালোবাসা, হৃদ্যতা, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়। সমাজে শান্তি আসে। অশান্তি দূর হয়। এটা সালামের মহিমা। সালাম ইসলামের একটি নিদর্শনও বটে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন তোমরা ঘরে প্রবেশ করবে, তখন তোমাদের স্বজনদেরকে সালাম দেবে। এ হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র অভিবাদন। ’ (সুরা নূর : ৬১)।
হযরত আবু উমারা বারা ইবনে আযেব (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে সাতটি আদেশ করেছেন
১. রোগী দেখতে যাওয়া;
২. জানাজার অনুসরণ করা;
৩. হাঁচির জবাব দেওয়া; ৪. দুর্বলকে সাহায্য করা;
৫. নির্যাতিত ব্যক্তির সাহায্য করা;
৬. সালাম প্রচার করা এবং
৭. শপথকারীর শপথ পালন করা। ’ (বুখারি ও মুসলিম)।
আল্লাহ জান্নাতবাসীদেরকে সালাম দ্বারা অভিবাধন জানাবেন, এদিন জান্নাতিরা আনন্দে মশগুল থাকবে। তারা এবং তাদের স্ত্রীরা উপবিষ্ট থাকবে ছায়াময় পরিবেশে আসনে হেলান দিয়ে। সেখানে তাদের জন্য থাকবে ফলমূল আর যা চাইবে। করুণাময় পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে ‘সালাম’। এ সালাম দুনিয়াতেও উত্তম বাক্য, জান্নাতেও উত্তম বাক্য।
সালামের ফজিলত
ইসলামে সালামের অনেক তাৎপর্য ও ফজিলত রয়েছে। সালাম দেওয়া সুন্নাত আর সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। মানে কোনো মুসলমান অন্য মুসলমানকে সালাম দিলে এর উত্তর শুনিয়ে দিতে হয়। না দিলে গুনাহ হয়। যে আগে সালাম দেবে তার আমলনামায় নব্বইটি নেকি লেখা হয়, আর যে সালামের জবাব দেবে তার জন্য দশটি নেকি লেখা হয়।
হযরত ইমরান ইবনে হোসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম’। তখন তিনি বললেন, লোকটির জন্য ১০টি নেকি লেখা হয়েছে। এরপর আরেক ব্যক্তি এসে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’। রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জবাব দিয়ে বললেন, তার জন্য ২০টি নেকি লেখা হয়েছে। এরপর আরেক ব্যক্তি এসে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’। রাসুল (সা.) তারও জবাব দিয়ে বললেন, লোকটির জন্য ৩০টি নেকি লেখা হয়েছে। (আবু দাউদ ও তিরমিজি)। হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী মানুষ সেই, যে প্রথম সালাম করে। ’ (আবু দাউদ ও তিরমিজি)। হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘যখন কোনো মুসলমান সালাম দেয় এবং অন্য মুসলমান উত্তর দেয়, তখন ফেরেশতাগণ তাদের জন্য সত্তরবার মাগফিরাতের দোয়া করেন। ’ (এহইয়াউ উলূমিদ্দীন : ২/১০১১)