ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ
সারাদেশের ন্যায় “ভিটামিন-এ খাওয়ান, শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমান” স্লোগানে গাইবান্ধা জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সাংবাদিকদের একদিনের ওরিয়েন্টশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন কনসালটেন্ট বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ডা. মো. নাজমুল হুদা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. কে.এম আফরোজ জাহান, জুনিয়ার স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মো. আমিরুল ইসলাম ও সিনিয়র সাংবাদিক গোবিন্দ লাল দাস।গাইবান্ধায় মোট ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪ শত ৫ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে। এরমধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী প্রায় ৩৪ হাজার ৬ শত ২৯ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৩ লক্ষ ৭ হাজার ৭ শত ৭৬ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। একই সঙ্গে আন্তঃব্যক্তি যোগাযোগ ও গণমাধ্যমের সহায়তায় জন্মের পরপরই (১ ঘণ্টার মধ্যে) শিশুকে শালদুধ খাওয়ানোসহ প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো এবং শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি পরিমাণ মতো সুষম খাবার খাওয়ানো বিষয়ে প্রচারাভিযান চালানো হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ছাত্র-শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সবার সার্বিক সহযোগিতায় অস্থায়ী ২০২০ ও অতিরিক্ত ১৩ কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অস্থায়ী কেন্দ্রগুলো বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, ব্রিজের টোল প্লাজা, রেলস্টেশন, খেয়াঘাট,স্কুল ইত্যাদি স্থানে অবস্থান করবে। প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ২ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করছেন।এছাড়াও দুর্গম এলাকা হিসেবে চিহ্নিত জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের সার্চিং কার্যক্রম পরিচালনা করে বাদ পড়া শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ কার্যক্রম সফল করতে ইতিমধ্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবীদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। প্রসঙ্গত; জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে যখন এই কার্যক্রম শুরু করেন। তখন ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মাঝে রাতকানা রোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ বারের প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা ৯০ শতাংশের বেশি। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো অব্যাহত রাখায় বর্তমানে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত রাতকানা রোগের হার শতকরা ১ ভাগের নিচে রয়েছে।